Balagonj Sylhet


বালাগঞ্জে শিক্ষার্থীকে ঘর থেকে তুলে নেয়ার ‘প্রচেষ্টা’র অভিযোগ


বালাগঞ্জে শিক্ষার্থীকে ঘর থেকে তুলে নেয়ার ‘প্রচেষ্টা’র অভিযোগ

বালাগঞ্জ (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা :

বালাগঞ্জে ‘পূর্ব শত্রুতার জের ধরে’ ‘অস্ত্রেরমুখে ভয় দেখিয়ে’ এক কলেজ ছাত্রীকে নিজ বসতঘর থেকে তুলে নেয়ার ‘প্রচেষ্টা’র অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিলম্বে প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৮ জুন) দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের নিজগহরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভিকটিম কলেজ ছাত্রী সাবিনা বেগম (২০) ছাড়াও তার মা রুকিয়া বেগম (৬৫) এবং চাচী আফিয়া বেগম (৫৫) হাত এবং মাথায় রক্তাক্ত জখম হন। অভিযুক্ত প্রতিবেশী যুবক আশিকুন নূরকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কলেজ ছাত্রীর পিতা মো. সিতাব আলী বাদী হয়ে বালাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ০৬, তারিখ ১৯জুন ২০২১। বালাগঞ্জ থানার অফিসার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এ ব্যাপারে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামী আশিকুন নূরকে গ্রেফতার পূর্বক জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে এবং অন্য অপরাধীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভিকটিম কলেজ ছাত্রী, তার মা-বাবা এবং বালাগঞ্জ থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৮ জুন) দুপুর পৌনে ২টার সময় এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় ভিকটিম কলেজ ছাত্রী সাবিনা বেগম এবং তার মা রুকিয়া বেগম ছাড়া পরিবারের পুরুষরা জুময়ার নামাজের উদ্দেশ্যে বাড়ির বাইরে ছিলেন। বাড়িতে পুরুষশূণ্য অবস্থায় স্থানীয় নিজগহরপুর গ্রামের সোনাফর আলীর ছেলে আশিকুন নূর (২৪) এবং আনোয়ারপুর গ্রামের ছুরাব আলীর ছেলে মিন্না আহমেদ (২৬) ও আকবর আলীর ছেলে রুজন মিয়া (২৮) পরস্পর যোগসাজশে ভিকটিম কলেজ ছাত্রী সাবিনা বেগমকে ‘ধারালো অস্ত্রেরমুখে জোরপূর্বক তুলে নেয়ার উদ্দেশ্যে’ বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় ভিকটিম ও তার মা ছাড়া আর কেউ ঘরে না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত আশিকুন নূর ঘরে প্রবেশ করে সাবিনা বেগমকে তুলে নেয়ার উদ্দেশ্যে ‘ধারালো অস্ত্রেরমুখে’ উঠোনে বের করে আনে। এ সময় ভিকটিমের চিৎকার শোনে তার মা রুকিয়া বেগম এবং চাচী আফিয়া বেগম বেরিয়ে এসে সাবিনাকে উদ্ধার করতে চাইলে আশিকুন নূরসহ অন্য অভিযুক্তরা প্রতিরোধকারী নারীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা রুকিয়া বেগমকে হাতে এবং আফিয়া বেগমকে মাথায় আঘাত করলে তারা রক্তাক্ত আহত হন।

এছাড়া ভিকটিম সাবিনা বেগমও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। এ সময় অন্যান্য প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে অভিযুক্ত আশিকুন নূরকে আটক করেন। তবে অপর অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আহত রুকিয়া বেগম এবং আফিয়া বেগমকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিম কলেজ ছাত্রীর মা রুকিয়া বেগমের বাম হাতের একটি আঙ্গুলের আংশিক অংশ কেটে পড়েছে। এছাড়া ভিকটিমের চাচী আফিয়া বেগমকে মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে।

এদিকে সংবাদ পেয়ে বালাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত আটক আশিকুন নূরকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় এবং জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। ঘটনার পরদিন শনিবার (১৯ জুন) ভিকটিম কলেজ ছাত্রী সাবিনা বেগমের পিতা মো. সিতাব আলী বাদী হয়ে আশিকুন নূর, মিন্না আহমেদ ও রুজন মিয়াকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ২৬, তারিখ : ১৯জুন ২০২১।
এ ব্যাপারে আলাপকালে বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এ ঘটনায় ১জনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতারসহ মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *





error: Content is protected !!