ঈদুল আযহা নিয়ে ভাবনা


করোনাময় ঈদুল আযহা উদযাপন নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা


করোনাময় ঈদুল আযহা উদযাপন নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

করোনায় হঠাৎ করে যেন থমকে আছে সব। কোলাহলে মুখরিত স্কুল-কলেজ, ক্যাম্পাসের আঙ্গিনা আজ আগাছার দখলে। দেশের প্রতিটি স্থানে আজ আতঙ্ক বিরাজমান । পৃথিবীজুড়ে শান্তির ছিটেফোঁটা যেন আদৃশ্য। শান্তির অনুভব কম । প্রাণোচ্ছল আমোদপ্রিয় মানুষেরা সকলেই ঘরবন্দী হয়ে হাতাশায় ডুবছে । এই মহামারীতে অনেকে উপার্জন হারিয়েছে,পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। দুই-একজন হতাশায় আত্যহত্যার পথও বেছে নিয়েছে। রোজকার সেই আনন্দগুলো আজ বিলীন হওয়ার পাশাপাশি বছরের পবিত্র ধর্মীয় উৎসবগুলো পালনে আয়োজন সীমিত। ছোট্ট বড় সকলের কাছে বছরের সবথেকে বড় আনন্দ ঈদ উৎসব। ব্যস্ত ক্যাম্পাসে একটানা ক্লাস আর পরীক্ষা শেষে ঈদের ছুটিতে ঘরে ফেরা যেন বড় প্রাপ্তি। আত্বীয়তার মেলবন্ধনের সুযোগ, একসাথে ঈদ কেনাকাটা, মেহেদী উৎসব, স্বাধীনভাবে বন্ধু ও ভাইবোনদের সাথে আড্ডা দেয়ার জন্যই যেন ঈদের অপেক্ষায় থাকতাম। অথচ মাহামারি পরিস্থিতি উল্টো করে দিয়েছে, এখন দুরত্বই প্রধান নির্দেশনা। এভাবে ক্রমাগত বাড়ছে মহামারীর প্রভাব । অনেক স্বজন হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে শত শত যৌথ পরিবার। কর্মস্থল থেকে ঈদ উদযাপনের জন্য শহর থেকে গ্রামে যাওয়ার সুযোগ এখন নেই । গ্রাম থেকে শহরে যাওয়ারও উপায় নেই । ঈদগাহে নামাজ আদায়, কোলাকুলি যেন বড়ই নিষেধাজ্ঞা,আগের সেই আনন্দ-উত্তেজনা এখন একদমই নেই। ভার্চুয়াল সামাজিক মাধ্যমই এখন কথপোকথন বা যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। এভাবে গম্ভীরতায় কাটাতে হচ্ছে প্রিয় উৎসবগুলো। তবে একদিন সুস্থ হবে অসুস্থ পৃথিবী, মাস্কবিহীন প্রাণোচ্ছল হাসিতে হাসবে আবার আমাদের দেশ । আমরা ফিরে পাবো সেই আনন্দঘন মুহুর্তগুলো। এখন সকলকে সচেতনভাবে সকল নির্দেশনা মেনে ঘরে ঘরে ঈদ উৎসব পালন করা প্রয়োজন, কারণ সুস্থতাই জীবনের মূল লক্ষ্য।

-মাহমুদা রিমি
এম.বি.বি.এস
হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ

মুসলিমদের প্রধান দুইটি ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে অন্যতম ঈদুল আযহা । এই উৎসবের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের আত্মত্যাগ, সেবা, দান এবং মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটে। ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে পরিবার পরিজনদের সাথে একত্রিত হয়ে আমরা প্রতিবছর ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করি। কুরবানি করা এবং কুরবানির মাংস বণ্টন করার মধ্যেও থাকে অসীম তৃপ্তি। কিন্তু কোভিড -১৯ মহামারীর কারণে আমরা সবাই গতবারের মতো এবছরেও ঘর বন্দী। এবারের ঈদও যেহেতু গতবারের মতো পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে তাই আমাদের সকলের উচিত পরিবার-পরিজনদের এই মহামারী থেকে সুরক্ষিত রাখতে সকল স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চলতে সাহায্য করা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আমরা বাড়ির বাইরে যাবো না। অসহায় এবং দুস্থ প্রতিবেশীদের সাহায্য করার মাধ্যমে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াবো এবং তাদের সুরক্ষিত রাখতে সচেষ্ট থাকবো। নিজেদের সুরক্ষা, অন্যদেরকে সাহায্য সহযোগিতা এবং দানের মাধ্যমে পালিত হোক এই পবিত্র উৎসব। পরিশেষে আল্লাহ আমাদের সকলে এই মহামারী থেকে হেফাজত করুক সুস্থ রাখুক এই প্রার্থনা !

-উম্মে হানিমা জেরিন
আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
——
বন্দীত্বে সুখ! না, আমি কোন মানসিক জটিলতাই নেই। করোনা আমাকে বন্দীত্বে সুখ খুঁজে নিতে শিখিয়েছ। করোনাকালীন গত দুই ঈদে ভেবেছিলাম সামনের ঈদে ঈদগাহে ঈদ জামাত পড়ব, বন্ধু -স্বজনের সাথে করবো কোলাকুলি ; হলো না। তবুও খুশি, অন্তত পরিবার নিয়ে সুখে আছি, সুস্থ আছি। পাশের বাসার আজাদ কাকু কাল আমাকে দেখে অনেকটা দৌড়িয়ে রুমে ঢুকলেন। হয়তো করোনা ভয় ; ৩০মিনিটেও আগে তার গল্প ফুরোতো না। দোকান থেকে বাসায় এসে ছোট বোনটিকে পরম মমতায় কোলে তুলে নেওয়া আব্বু এখন আগে গোসল করেন। হইতো আমাদের সুস্থতার জন্য। নতুন লকডাউনে দোকান বন্ধ। হাতখরচ চাইতেও মন চাইছে না; সামনে ঈদ। এবার ত্যাগের ঈদ, কোরবানির ঈদ। নতুন ত্যাগের শিক্ষায় দীক্ষিত হবে ধরনী।
শাফায়েত হোসেন, শিক্ষার্থী কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ

বছর ঘুরে আমাদের মাঝে আবার আসছে পবিত্র ঈদুল আযহা। এটা আমাদের জন্য শান্তি, সৌহার্দ্য, আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসার উৎসব । পবিত্র এই দিনটির উদ্দেশ্য সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য আমাদের উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হওয়া। বিভিন্ন কোরবানি ও ত্যাগের করা এই প্রতীকী অর্থে। এসবের মাধ্যমে মানুষের সব ক্রোধ, লোভ,মোহ,পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা দূর করা । হালাল উপার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা পশু কোরবানির মাধ্যমেই তা কেবল সম্পূর্ণ হয়। এই মহামারিতে সবার সুস্থতা কামনা করি । আমার চিন্তা এবার ঘরে থাকা, কারন নতুন করে আবার বেড়েছে শনান্তের সংখ্যা ।

-মোঃ মিজানুর রহমান
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ঈদ মানে হাসি খুশি আনন্দের যেন এক মিলনমেলা। অন্তত ছোটবেলা থেকে গত বছরের আগে পর্যন্ত তাই মনে হয়েছে। কিন্তু এই করোনা মহামারীর কারনে আনন্দ, দুঃখ, কষ্ট, আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা সবকিছু মিলিয়ে এক অপরিচিত ঈদ উদযাপন করতে হয়েছে। এ বছর কোরবানি ঈদেও মনে হয় না ব্যতিক্রম কিছু হবে।
সবথেকে বেশি খারাপ লাগে যখন মনে হয় যে আজ ঈদ কিন্তু ঈদগাহে নামায পড়তে পারব না। ঐ আমেজ আসলে একটা আলাদা অনুভুতি। নতুন নতুন জামা পড়ে ঈদগাহে যাওয়া, নামায শেষে কোলাকুলি, সবাই একসাথে হওয়া এগুলা যে মিস করব তা ভাবতেই কেমন যেন লাগে। তাছাড়া নামায পড়ে বন্ধুরা সবাই মিলে কোথাও যেমন ঘুরতে যাওয়া, খাওয়া-দাওয়া করা এসব বিষয় আফসোসের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া কষ্টকর। আবার এদিকে নতুন পোশাক আর সালামির চকচকে টাকা জমানোর আর বেশি কমের হিসেব করার সুন্দর মুহুর্তগুলোও হয়ত চোখে পড়বে না।
তবে সবকিছু বিবেচনায় এটা ভেবেও ভালো লাগছে যে আল্লাহ এতো দূর্দশার মধ্যেও আমাকে আমার পরিবারকে সুস্থ রেখেছেন।
সর্বোপরি ঈদ মানে সবাইকে নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগির দিন। সুখ-দুঃখের এই ভাগাভাগির শিক্ষা কেবল আত্মোপলব্ধি এবং পরোপকারের অনুশীলনের মাধ্যমেই সম্ভব। এই করনাকালীন সময়ে অনেক পরিবার আছে যাদের সার্বিক অবস্থার অনেক অবনতি ঘটেছে। তাই আত্মকেন্দ্রিকতা ভুলে আমার মনে হয় সকলের প্রতি সহমর্মি হওয়ার মধ্যেই এই ঈদের প্রধান শিক্ষা নিহিত।

-নোমান সীমান্ত
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
—-
প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারির প্রাদুর্ভাবের সময় আসছে কুরবানি । এবারের ঈদ নিয়ে সবার মাঝেই জল্পনা-কল্পনা আলোচনা । ইসলামের এই পবিত্র ইবাদত আল্লাহ সঙ্গে বান্দার ভালোবাসার অনন্য প্রতীক । কুরবানি কে ইসলামের অন্যতম নিদর্শনও বলা যায় । কুরবানিতে পশুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে । প্রয়োজনে নেওয়া হোক বিকল্প কোন পদক্ষেপ । এবার কেনা বেচা অনলাইনে হলেও খারাপ হবেনা ।
প্রকৃত অর্থে ঈদ আসলে যেন খুশীতে মন ভরে যায় । আনন্দে মেতে উঠে মন, যেখানে নেই কোন দুঃখ ভরাক্রান্ত মন । এবারের ঈদে যেহুতু সবাই বাসায় থাকবো সেহুতু এবারের মাকে রান্নায় সাহয্য করা করবো । পরিবার পরিজন নিয়ে উচ্ছাসে সামিল হবো । আশা করি অনেক ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে দিনটি চলে যাবে । করোনাময় এই ঈদ হোক সবার জন্য সুখময় হোক শান্তিতে থাকুক সবাই এই দোয়া ।

-রানা আহম্মেদ অভি
বাংলা বিভাগ
উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *





related stories


error: Content is protected !!