News From Madari Pur


মাদারীপুরে সাংসদ শাজাহান খান ও আ.লীগ সভাপতির সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১৫


মাদারীপুরে সাংসদ শাজাহান খান ও আ.লীগ সভাপতির সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১৫

১২ জুন ২০২১,

 

পুলিশের উপস্থিতিতেই উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পুলিশ লাঠিপেটা করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপরই উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় তিন পুলিশসহ আহত হন অন্তত ১৫ জন। এ সময় সাংসদ–সমর্থিত উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা ঘটকচর বাসস্ট্যান্ডের পাশের সরদার মার্কেটে ভাঙচুর ও হামলা চালান। এতে ওই মার্কেটে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের ঘটকচর শাখা, রেখা বিউটি পারলার, একটি হোটেলে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া মার্কেটের প্রায় ৭টি ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে থাকায় পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

মাদারীপুরে সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার কলাবাড়ি এলকায়

মাদারীপুরে সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার কলাবাড়ি এলকায়

ভাঙচুরের শিকার সরদার মার্কেটের স্বত্বাধিকারী ও কেন্দুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাব হোসেন সরদার বলেন, ‘জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল খান, সাংসদপুত্র আসিবুর রহমান খান, কেন্দুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জয়নাল মাতুব্বর লোকজন নিয়ে আমার নিজস্ব মার্কেটে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এমন কোনো দোকানপাট নেই যে তাণ্ডব চালানো হয়নি। দুটি ব্যাংক, মসজিদ-মাদ্রাসা পর্যন্ত তাঁরা বাদ রাখেন নাই। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করব। আমি এর কঠোর বিচার চাই।’

জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা  বলেন, ‘আমি সাংসদ শাজাহান খানের বাবাকে নিয়ে যে কথা বলেছি, তার ভুল বা সঠিক কী ছিল, সেই ব্যাখ্যা তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারতেন। কিন্তু সাংসদ সেটা না করে আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করেছেন। তাঁর সমর্থকদের দিয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর শুরু করেছেন। আজ যে হামলা–ভাঙচুর হয়েছে, তা সাংসদের ছেলে ও ভাতিজার নেতৃত্বে বিএনপির লোকজনকে দিয়ে করানো হয়েছে। হামলায় একজন মুক্তিযোদ্ধার মার্কেট ও তাঁর বসতঘর ভাঙচুর হয়েছে। এর দায়ভার সাংসদের নিতে হবে। তিনি কোনোভাবেই এই দায় এড়াতে পারবেন না।’

মাদারীপুরে সাংসদ ও আওয়ামী লীগ সভাপতির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০টি মোরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার ঘটকচর এলকায়।

মাদারীপুরে সাংসদ ও আওয়ামী লীগ সভাপতির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০টি মোরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার ঘটকচর এলকায়।

অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে সাংসদ শাজাহান খান ফোনে  বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমার বাবাকে নিয়ে যে কথা বলেছেন, তা আমার ও মাদারীপুরবাসীর জন্য অপমানজনক। আমি রাজনৈতিকভাবে এলাকার জনগণ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এর প্রতিবাদ করে যাব। আমার ছেলে, ভাতিজাসহ আমার পরিবারের স্বজনেরা আজ তারই অংশ হিসেবে মানববন্ধনে যোগ দিতে কলাবাড়ি যান। সেখানে তাঁদের লক্ষ্য করে প্রথমে ঢিল ছোড়া হয়, এরপরই ঘটকচর এলাকায় আসার পর আবারও তাদের লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়। পরে সোহরাব সরদারের নেতৃত্বে হামলা চালানো হলে আমার ছেলে ও ভাতিজারা তা প্রতিরোধ করে। সেখানে তারা কোনো ভাঙচুর ও মারামারি করতে যায়নি।’

মাদারীপুরে সাংসদ ও আওয়ামী লীগ সভাপতির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুটি ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার ঘটকচর এলকায়

মাদারীপুরে সাংসদ ও আওয়ামী লীগ সভাপতির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুটি ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার ঘটকচর এলকায়

বিকেল পাঁচটার দিকে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তাফা রাসেল  বলেন, ‘বিবদমান দুপক্ষের বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দুপক্ষকে আমরা একত্র হতে দিইনি। ফলে মারামারি হয়নি। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও যাওয়ার সময় কিছু বিক্ষুব্ধরা দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ইটপাটকেল ছুড়ে ভাঙচুর করে, যা কয়েকটি সিসিটিভি দেখে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুপক্ষের ইটপাটকেল নিক্ষেপে আমাদের তিনজন পুলিশ আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। থানায় কোনো পক্ষ অভিযোগও করেনি।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *





related stories


error: Content is protected !!