News From Jhalokathi in Bangla


রাজাপুরে সরকারি টাকায় ইচ্ছামত ড্রেন নির্মাণ করে চেয়ারম্যানের রেকর্ডীয় খাল দখলের চুড়ান্ত বন্দোবস্ত


রাজাপুরে সরকারি টাকায় ইচ্ছামত ড্রেন নির্মাণ করে চেয়ারম্যানের রেকর্ডীয় খাল দখলের চুড়ান্ত বন্দোবস্ত
রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির রাজাপুরে সরকারী কলেজ রোডে বাজারের দক্ষিণ মাথায় সংযোগ সড়কের মহাসড়ক ঘেঁষা কৃষ্ণ হালদারের বাড়ি সংলগ্ন এলজিইডি রাস্তার পশ্চিম পাশে ধোপা বাড়ি খালটি দখলের উদ্যেশ্যেই ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। গত বুধবার বিকেলে সরকারি টাকায় রাজাপুর সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মজিবর মৃধার (ঠিকাদার) ব্যক্তি ম্বার্থে নির্মিত এ ড্রেন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় স্থানীয়রা। ইতিমধ্যে এসএ রেকর্ডীয় এই খালটির উজানে এক কিলোমিটার এলাকা স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্থায়ী স্থাপনা। ফলে বর্ষাকালে একটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় স্থায়ী ভাবে। উর্বরতা হারিয়ে কয়েক হেক্টর আবাদি জমি আজ পতিত হয়ে পরছে।
স্থানীয়রা জানায়, রাজাপুর শহরের দক্ষিণ মাথায় বাজার রোডের মুখে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় যে ড্রেনটি নির্মাণ করা হচ্ছে তার পশ্চিম পাশেই পঁচিশ ফুট চওড়া এসএ রেকর্ডীয় একটি পুরানো খাল রয়েছে যা ধোপা বাড়ি খাল নামে পরিচিত। সর্বশেষ এ খালটি সদর চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মজিবর মৃধা তার ক্রয়কৃত জমির সাথে দখল করে নিয়েছে। এখন সেই দখকৃত খালের পাশের রাস্তা কেটে ড্রেন নির্মাণ করে খালের জমি নিজের করার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়রা আরও জানায়, এই রাস্তার পশ্চিম পাশ থেকে আরও একটি রাস্তা মন্দিরের সামনে থেকে রাজাপুর বাজারের সাথে গিয়ে মিশেছে । দুই রাস্তার মাঝ খানে পশ্চিম পাশের রাস্তার পরে পূর্বদিকে প্রায় পচিশ ফুট জায়গা ব্যক্তি মালিকাধীন ছিল যা চেয়ারম্যান গত তিন বছর আগে কিনে নিয়ে নিজের জমির সাথে খালটিও বালু ফেলে ভরাট করে সেখানে দোকান নির্মাণ করেছেন। এখন খালের জমি বাদ দিয়ে রাস্তা কেটে ড্রেন নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয়দের বিষয়টি নজরে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, পচিশ ফুটের এই ধোপা বাড়ি খালটি দখলের পরেও প্রায় পনের ফুটের মতো খাল ছিল, যা চেয়ারম্যান দখলের উদ্দেশ্যে জরুরী ভিত্তিতে রাস্তা কেটে একটি ড্রেনের ব্যাবস্থা করেছে। আমরা স্থানীয়রা এব্যাপারে সহকারী ভূমি কমিশনার ও নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
স্থানীয় আর এক বাসিন্দা সাবেক অধ্যাপক সোহরাব হোসেন বলেন, এটি একটি পুরানো খাল । এ খালে এক সময় বড় মালবাহী নৌকা ভিড়ত। সময়ের সাথে সাথে খালের পাশের বাসিন্দারা যে যার মতো দখল করে নিয়েছে। বাকি যেটুকু ছিল সেটুকুও দখল করে রাস্তা কেটে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। যা এলাকাবাসীর কোন প্রয়োজনে আসবে না।
এব্যাপারে রাজাপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মৃধা মজিবর বলেন, খাল আমি দখল করিনি , পশ্চিম পাশে খাল এখনও আছে। আপনি সরাসরি এখানে আসলেই বিষয়টি বুঝতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *





related stories


error: Content is protected !!