দ্য লন্ডন টাইমস ফলোআপ


প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নতুন অটোরিকশা পেলেন সেই ছাত্রলীগ নেতা


প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নতুন অটোরিকশা পেলেন সেই ছাত্রলীগ নেতা

মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী

 

 

একসময় তার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন ছাত্রলীগের শত শত নেতা-কর্মী। বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে লড়াই করেছেন। সহ্য করতে হয়েছে জেল-জুলম-নির্যাতন। অনেকে লেখাপড়াও শেষ করতে পরেননি। তাদেরই একজন নোয়াখালীর কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগের দুঃসময়ের সঙ্গী দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ফারুক। তিনি অর্থাভাবে এখন রিকশা চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। এক সময়ের দাপুটে নেতা বলে তার রিকশা চড়তেও লজ্জা পান এলাকাবাসী। ‘দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা এখন রিকশাচালক’ শিরোনামে  লাইভে তার দুর্দশা তুলে ধরে প্রকাশিত সংবাদের পর সেই ফারুকের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আনোয়ার হোসেন ফারুক। 

শনিবার (২৯ মে) দুপুরে সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতাকে একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান সেই ছাত্রলীগ নেতার হাতে এই উপহার হস্তান্তর করেন। এছাড়া ফারুকের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী এবং নোয়াখালী বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পাওয়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী ফারুককে একটি ব্যাটারি চালিত রিকশা উপহার দিয়েছি। তার পারিবারিক সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ফারুক দুঃসময়ের ছাত্র লীগ নেতা। কিন্তু সে যে এতটা সমস্যাগ্রস্ত ছিলেন, এটা দলীয় কোন ফোরামে জানা যায়নি। শনিবার খবরটি শোনার পর তার জীবিকা নির্বাহের জন্য তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার ঘোষাণা দেন তিনি।

ফারুক এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। তিনি বলেন, ফারুকদের মতো কর্মীরা আওয়ামী লীগের প্রাণ। তাদের শ্রমে-ঘামে আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। অথচ ফারুকের মতো কর্মীরা অবহেলিত।

এদিকে রিকশা চালক ফারুকের সংবাদ নজরে আসায় ফারুকের সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন গাজীপুর সিটি মেয়র এডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন ও গোলাম রাব্বানী।

আনোয়ার হোসেন ফারুক কবিরহাট উপজেলার পদুয়া গ্রামের মোহাম্মদ উল্যার ছেলে। মোহাম্মদ উল্যার চার ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে ফারুক দ্বিতীয়। মা, স্ত্রী ও চার কন্যাসন্তান নিয়ে বড় একটি সংসারের দায়িত্ব এখন ফারুকের কাঁধে। ফারুকের ছোট ভাই পারভেজ মোশারফ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য।

২০০১ সালে বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম যখন নিভু নিভু অবস্থায়, তখন দাপটের সঙ্গে কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে সংগঠন গুছিয়ে তোলেন তিনি। সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকায় জেল-জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ফারুক।

সরেজমিনে কবিরহাট বাজারে ফারুকের রিকশার যাত্রী হয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। ফারুক বলেন, ১৯৯৫ সালে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ওই বছরই কবিরহাট পদুয়া শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে কবিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি, ২০০৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এইচএসসি পাস ফারুক বলেন, তখনকার সময়ে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করতে গিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের রোষানলে পড়তে হয়। যার কারণে ডিগ্রি পরীক্ষাটা পর্যন্ত দিতে পারিনি। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ডিসি অফিসের একটি এমএলএসএস’র চাকরির জন্য নেতাদের দরজায় দরজায় ঘুরেছি, পাইনি। ছোট ভাইটাকেও চাকুরি নিয়ে দিতে পারিনি, সর্বশেষ বৌ-টাকে একটা চাকুরি দিতে নেতাদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি, ঘুষের টাকার জন্য চাকরি হয়নি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *





related stories


error: Content is protected !!