News from Jhalokathi, Bangladesh in Bangla


ঝালকাঠিতে লকডাউনের মধ্যে থাবা বসাচ্ছে ডায়রিয়া, আইভি স্যালাইন সংকটে গোটা জেলা


ঝালকাঠিতে লকডাউনের মধ্যে থাবা বসাচ্ছে ডায়রিয়া, আইভি স্যালাইন সংকটে গোটা জেলা
রেজাউল ইসলাম পলাশ, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি ।
এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই ঝালকাঠিতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে গেছে। এই জেলায় করোনার চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ডায়রিয়া। জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলা শহরের হাসপাতালগুলোতেও আর ডায়রিয়া রোগীদের জায়গা হচ্ছে না। ফলে বাড়িতেই চলছে অধিকাংশ রোগীর চিকিৎসা। এদিকে ফার্মেসিগুলোতে দেখা দিয়েছে স্যালাইনের সঙ্কট। গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিন শতাধিক মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এই জেলায়। সদর হাসপাতালের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও রোগী বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের নির্ধারিত বেডে রোগীর সংকুলান না হওয়ায় অন্য ওয়ার্ড ও বারান্দার মেঝেতে রেখে স্যালাইন দিতে হচ্ছে রোগীদের। কেউ কেউ স্যালাইন পুশ করেই বাসায় চলে যাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের অন্য একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে উপজেলা পর্যায়ে মাঠ কর্মীদের গ্রামাঞ্চলে ভিজিট করার নিয়ম রয়েছে এবং ডায়রিয়া প্রতিরোধে তাদেরকে খাবার স্যালাইন ও জিংক ট্যাবলেট গ্রামের মানুষের মধ্যে বিতরণের কর্মসূচী রয়েছে। কিন্তু মাঠকর্মীদের মধ্যে করোনা পরিস্থিতি ইস্যু নিয়ে তাদের প্রথাগত দায়িত্ব পালন না করায় হঠাৎ করে এই অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। করোনা মহামারির জেরে বিপর্যস্ত গোটা দেশ। কিন্তু করোনার জন্য অন‍্যান‍্য রোগের প্রকোপ কমেনি। বরং নজরদারি কমার জেরে বিপদ বাড়াচ্ছে নন-কোভিড রোগ। তাই সরকারি স্তরে সতর্কতা না বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হবে এমনটাই সচেতন মহলের দাবি। তারা বলছেন করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশপাশি এই সব রোগকে অবহেলা করলে চলবে না। তাহলে দীর্ঘমেয়াদি বিপদ ডেকে আনা হবে।
ঝালকাঠি সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে জানা যায়, গত এক মাসে জেলায় ডায়ারিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৬১ জন। এর মধ্যে গত সাত দিনে ৭০৭ জন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ২৫ বছরে এই সময়ে এতো ডায়রিয়া রোগীর চাপ সামলাতে হয়নি বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে হাসপাতালে ওষুধ ও স্যালাইনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একই চিত্র ঝালকাঠির অন্য তিন উপজেলা নলছিটি, রাজাপুর ও কাঠালিয়ার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে। সেখানেও ওষুধ ও স্যালাইনের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় দোকান থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে রোগীদের। নলছিটি ও রাজাপুরে দোকানেও এখন স্যালাইন ও ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ৯০ টাকার কলেরা স্যালাইন ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী, সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী, সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জাফর আলী দেওয়ান ডায়রিয়া সংক্রমণ পরিস্থিতিতে জেলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *





related stories


error: Content is protected !!