দৈনিক লন্ডন টাইমস, টেকনাফ সংবাদ


টেকনাফে কামাল- নবী হেসেনের সিন্ডিকেটে চলে ইয়াবা ব্যবসা!


টেকনাফে কামাল- নবী হেসেনের সিন্ডিকেটে চলে ইয়াবা ব্যবসা!

টেকনাফের সাবরাং সিকদার পাড়া মৃত মাস্টার জহির আহমেদ ছেলে কামাল-নবী হোসেন পরিবারের সিন্ডিকেটে চলে ইয়াবা কারবার। গতকাল ১৭ মার্চ র্যাব-১৫ এর হাতে ৭০ হাজার ইয়াবা এবং ৪লাখ টাকা সহ ধরা পড়াদের একজন কামাল হোছাইন(৪০)।এর আগে গত ২৪ অক্টোবর ২০২০ সালে র্যাবের হাতে ২ কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবা এবং ১৬ লাখ টাকাসহ ধরা পড়েছিল তার আরেক ভাই নবী হোছাইন এখনো পর্যন্ত জেলে রয়েছে।

বিভিন্ন তথ্য সুত্র বলছে,এরা সবাই মিলে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারকেন্দ্রিক একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।কিন্তু কথা হচ্ছে প্রশাসনের এতো তৎপরতার পরেও কিভাবে এরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলো?কিভাবে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ওর সময়ে এরা পার পেয়ে গিয়েছিলো?

তাহলে জানুন সেই গল্প, উপজেলা পরিষদ একটা উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকান্ডের নিউক্লিয়াস।এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থাকায় ভাইয়েরা নাম বিক্রি কররা চেষ্টা করে। যার দরূণ খুব সহজে প্রশাসনের সাথে জড়িত সকলের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।আর এটাই ট্রামকার্ড এই সিন্ডিকেটের। প্রশাসনের সাথে গড়ে তুলা সুসম্পর্কে কাজে লাগিয়ে নিজের ভাইরা চালিয়ে গেছে নিজেদের ইয়াবা ব্যবসা,সম্প্রসারিত করেছে নিজের অবৈধ অর্থের সাম্রাজ্য।

দীর্ঘদিন ধরে সাবরাং এর খুরের মুখকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে নিজ ভগ্নিপতির মাধ্যমে মায়ানমার থেকে আনা ইয়াবার চালান উত্তোলন করে আসছে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে।গত কয়েকদিন আগেও এই সিন্ডিকেট অন্য সিন্ডিকেট এর সাথে মিলে লম্বরী ঘাট থেকে প্রায় ৩লাখ ইয়াবার চালান খালাস করেছে বলে এলাকায় জনশ্রুতি আছে এবং স্থানীয়রা মনে করছে র্যাব এর হাতে গতকাল মৌলভীপাড়া থেকে ধৃত ৭০ হাজার ইয়াবাও খালাসকৃত ৩ লাখ ইয়াবার একটি অংশ।

তাদের সিন্ডিকেট এর অনেকেই এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে যাদের আইনের আওতায় আনা গেলে এই সিন্ডিকেটের ইয়াবার দৌরাত্ম্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে মনে করেন স্থানীয় জনগণ।

যেখানে সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করছে পুরোধমে পরিবারের সিন্ডিকেটে ইয়াবা কারবারিদের আশ্রয়,প্রশ্রয় দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে নিতে থাকলে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ এবং মাদকমুক্ত টেকনাফ গড়ে তুলা কখনো সম্ভব হবেনা।

কয়েকবছর আগেও এদের কৃষিকাজ এবং ভাইদের প্রবাস জীবনে অর্জিত আয় ছিলো ভরণপোষণের মাধ্যম।
তবে যারা প্রবাসে থাকতো তারা শূন্য হাতে দেশে ফিরে এসে ইয়াবা ব্যবসার হাল ধরে এবং অল্প সময়ের মধ্যে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠে।নির্মাণ করে নিজ এলাকার সবচেয়ে সুন্দর এবং বিলাসবহুল বাড়ি যা কোটি টাকা মূল্যমানের।

তাই উপজেলা চেয়ারম্যান,উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এবং টেকনাফ থানা পুলিশের নিকট এলাকার সচেতন জনগণের দাবি,যেনো যথাযথ তদন্ত করে এই সিন্ডিকট সহ সকল মাদক কারবারির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং রাষ্ট্রবিরোধী,সমাজবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে তাদের লাগাম টেনে ধরা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *





error: Content is protected !!